ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান থেকে বিষধর পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান থেকে একটি বিষধর পদ্ম গোখরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ১১টার দিকে চা বাগানের ১৪ নম্বর সেকশনে চা পাতার কুঁড়ি তোলার সময় সাপটি দেখতে পান শ্রমিকরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চা পাতার কুঁড়ি সংগ্রহের সময় এক শ্রমিক হঠাৎ সাপের শু শু শব্দ শুনতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে আশপাশের চা শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। পরে ঘটনাটি ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানকে জানানো হয়।

সাপটির অবস্থানের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি শনাক্ত করেন। তারা জানান, এটি পদ্ম গোখরা, যা অত্যন্ত বিষধর প্রজাতির সাপ।

পরে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা সতর্কতার সঙ্গে সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। উদ্ধার করা পদ্ম গোখরাটি পরবর্তীতে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, “চা বাগানের শ্রমিকরা সাপটিকে না মেরে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন—এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সময়মতো খবর পাওয়ায় আমরা সাপটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে পেরেছি। বন্যপ্রাণী প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই কোনো সাপ বা বন্যপ্রাণী দেখলে সেটিকে না মেরে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট উদ্ধারকারী সংগঠনকে খবর দেওয়া উচিত।”

পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, “পদ্ম গোখরা অত্যন্ত বিষধর হলেও সাধারণত অকারণে মানুষের ওপর আক্রমণ করে না। সাপটি দেখার পর আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা না করে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সচেতনতার কারণে এবার একটি মূল্যবান বন্যপ্রাণীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।”

এদিকে সাপটিকে হত্যা না করে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক সাদেকুর রহমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোথাও কোনো বন্যপ্রাণী বা পাখি ধরা পড়লে, আহত কিংবা অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া গেলে সেটিকে বিরক্ত বা হত্যা না করে দ্রুত নিকটস্থ বন বিভাগে খবর দিতে হবে অথবা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *