পাঠ্যবইয়ের বাইরেও যিনি শেখান জীবন—শ্রীমঙ্গলের শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মনসুর ইকবালের প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে জ্ঞান, মূল্যবোধ ও মানবিকতার আলো ছড়িয়ে চলার গল্প।
শ্রীমঙ্গল | বিশেষ ফিচার
একজন শিক্ষক কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন একটি মানুষের জীবনে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে হয়তো কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে না। কারণ একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় অর্জন অনেক সময় সনদে লেখা থাকে না, পুরস্কারের তালিকায়ও নয়। তা ছড়িয়ে থাকে তাঁর অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে—কেউ যখন ভালো মানুষ হয়ে ওঠে, কেউ যখন নিজের পেশায় প্রতিষ্ঠিত হয়, কেউ যখন সমাজের জন্য কিছু করার চেষ্টা করে।
শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি) মো. মনসুর ইকবাল এমনই একজন শিক্ষক। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি শুধু ইংরেজি পড়াননি; শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী হতে, শৃঙ্খলাবোধ তৈরি করতে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতেও ভূমিকা রেখেছেন।
১৯৯৬ সালের মার্চ থেকে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর পথচলা। সময়ের হিসাবে এটি প্রায় তিন দশকের এক দীর্ঘ অধ্যায়। এই সময়ে বিদ্যালয়ের প্রজন্ম বদলেছে, বদলেছে শিক্ষাব্যবস্থা, বদলেছে প্রযুক্তি ও শ্রেণিকক্ষের ধরন। কিন্তু শিক্ষকতার প্রতি তাঁর নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধের জায়গাটি থেকে গেছে অটুট।
যে বিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছিল স্বপ্ন
মনসুর ইকবালের নিজের শিক্ষাজীবনের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৭৮ সালে তিনি এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৮০ সালে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
শিক্ষার্থী হিসেবে যে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বসে তিনি নিজের ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, একসময় সেই বিদ্যালয়েই শিক্ষক হিসেবে ফিরে আসা—এটি নিঃসন্দেহে তাঁর জীবনের একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।
একসময় যাঁরা ছিলেন তাঁর শিক্ষক, পরবর্তীতে সেই প্রতিষ্ঠানের করিডরে দাঁড়িয়েই তিনি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিয়েছেন জ্ঞানের আলো। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একজন মানুষের এমন দীর্ঘ সম্পর্ক খুব সহজে তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে টান, দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানকে নিজের জীবনের অংশ করে নেওয়ার মানসিকতা।
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক, শিক্ষার্থীর কাছে আপনজন
শিক্ষকতার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় শ্রেণিকক্ষে। একটি বইয়ের বিষয়বস্তু বোঝানো আর একজন শিক্ষার্থীকে বিষয়টি বুঝতে আগ্রহী করে তোলা—দুটি এক নয়।
মনসুর ইকবালের শিক্ষকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর প্রাণবন্ত পাঠদান ও আন্তরিক আচরণের কথা উঠে আসে। ইংরেজি বিষয়ের মতো অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তুলনামূলক কঠিন একটি বিষয়কে সহজভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা তাঁর পাঠদানের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
তাঁর কাছে শ্রেণিকক্ষ শুধু পরীক্ষার প্রস্তুতির জায়গা নয়। একজন শিক্ষার্থী কীভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কথা বলবে, কীভাবে নিজের ভুল থেকে শিখবে এবং কীভাবে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবে—এসবও শিক্ষার অংশ।
এই কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু ‘স্যার’ হয়ে থাকেননি; হয়ে উঠেছেন একজন আস্থার মানুষ।
শিক্ষার্থীদের সাফল্য তাঁর কাছে নিজের সাফল্যের মতো। কোনো সাবেক শিক্ষার্থী জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এ খবর একজন শিক্ষকের কাছে যে কতটা আনন্দের, তা হয়তো শিক্ষক ছাড়া আর কেউ পুরোপুরি বুঝতে পারবেন না।
প্রায় তিন দশকের নিরলস পথচলা
১৯৯৬ সালে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে মো. মনসুর ইকবালের শিক্ষকতা জীবনের বড় অংশ কেটেছে এই প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেই।
একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় কাজ করা শুধু চাকরির ধারাবাহিকতা নয়; এটি একটি প্রজন্মের সঙ্গে আরেক প্রজন্মের সেতুবন্ধনও।
তাঁর সামনে দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থী বিদ্যালয়জীবন শেষ করে উচ্চশিক্ষায় গেছে, কেউ চাকরিতে প্রবেশ করেছে, কেউ ব্যবসা বা পেশাজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, কেউ দেশের বাইরে গিয়েছে। নতুন ব্যাচ এসেছে, পুরোনো ব্যাচ বিদায় নিয়েছে। কিন্তু শিক্ষকের আসনটি একই থেকেছে।
এই দীর্ঘ সময়ের শিক্ষকতায় তিনি দেখেছেন শিক্ষার্থীদের পরিবর্তন, সমাজের পরিবর্তন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন। চক-ডাস্টারের শ্রেণিকক্ষ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার যুগ—এই পরিবর্তনের সাক্ষীও তিনি।
শিক্ষকতার বাইরেও নেতৃত্ব
মনসুর ইকবালের পরিচয় শুধু বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি শিক্ষক সংগঠন, সামাজিক উদ্যোগ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
তিনি বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস)-এর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেকেন্ডারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শিক্ষকদের অধিকার, কল্যাণ ও পেশাগত বিষয় নিয়ে কাজ করছেন।
শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অর্থ শুধু একটি পদ ধারণ করা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সহকর্মীদের সমস্যা, পেশাগত মর্যাদা, শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় এবং শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার নিয়ে কাজ করার দায়িত্ব।
এই জায়গায় তাঁর নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা শিক্ষকতার বাইরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তৈরি করেছে।
স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে মানুষের পাশে
সামাজিক কাজেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি Srimangal Association of Voluntary Efforts-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সমাজের উন্নয়ন শুধু রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের একার দায়িত্ব নয়—ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং তরুণদের ইতিবাচক কাজে যুক্ত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।
মনসুর ইকবালের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা দেখায়, তাঁর কর্মকাণ্ডের পরিধি শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়।
‘অনুশীলন চক্র’ ও সাংস্কৃতিক পরিসর
শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক রয়েছে। তিনি ‘অনুশীলন চক্র, শ্রীমঙ্গল’-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একটি সমাজের বিকাশে সাংস্কৃতিক চর্চার ভূমিকা অনেক গভীর। বই পড়া, আলোচনা, চিন্তার আদান-প্রদান, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা—এসব মানুষের মননকে সমৃদ্ধ করে।
শিক্ষক হিসেবে তিনি যে জ্ঞানচর্চার সঙ্গে যুক্ত, সংগঠক হিসেবেও সেই চর্চাকে সমাজের বৃহত্তর পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা তাঁর বহুমুখী কর্মকাণ্ডের একটি দিক।
কলমেও তাঁর আরেক পরিচয়
শিক্ষকতার পাশাপাশি মো. মনসুর ইকবাল যুক্ত আছেন লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে। তিনি মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত Daily Our Time পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষকতা ও সাংবাদিকতা—দুটি পেশার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই সত্য, তথ্য, পর্যবেক্ষণ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ।
একজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান তুলে ধরেন; একজন সাংবাদিক সমাজের সামনে বাস্তবতার ছবি তুলে ধরেন। মনসুর ইকবালের জীবনে এই দুটি ভূমিকা পাশাপাশি চলেছে।
স্থানীয় সমাজ, মানুষের সমস্যা, শিক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক ঘটনাপ্রবাহকে জানার এবং তা মানুষের সামনে তুলে ধরার সুযোগ সাংবাদিকতা তাঁকে দিয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষকতা তাঁকে দিয়েছে মানুষের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের একটি বিশাল পরিসর।
শিক্ষকতার সার্থকতা কোথায়?
একজন শিক্ষককে মূল্যায়নের সবচেয়ে বড় মাপকাঠি কী—কত বছর চাকরি করেছেন, কতগুলো ক্লাস নিয়েছেন, নাকি কতজন শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ভালো ফল করিয়েছেন?
সম্ভবত এর কোনোটিই একমাত্র উত্তর নয়।
একজন শিক্ষকের প্রকৃত সার্থকতা তখনই, যখন তাঁর কোনো শিক্ষার্থী বহু বছর পরও তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। যখন কোনো সাবেক শিক্ষার্থী জীবনের কঠিন সময়ে তাঁর শিক্ষকের কোনো কথা মনে করে সাহস পায়। যখন তাঁর শেখানো মূল্যবোধ কোনো মানুষের আচরণে প্রকাশ পায়।
মনসুর ইকবালের শিক্ষকতা জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন সম্ভবত এই জায়গাতেই—তাঁর শিক্ষার্থীদের স্মৃতিতে একজন শিক্ষক হিসেবে থেকে যাওয়া।
সম্মাননা: কাজের স্বীকৃতিতে আরেকটি অধ্যায়
দীর্ঘ শিক্ষকতা ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘লেবু স্যার একাডেমী, শ্রীমঙ্গল’-এর পক্ষ থেকে তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ ‘সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়েছে।
একজন শিক্ষকের হাতে পুরস্কার বা সম্মাননা তুলে দেওয়া মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মানিত করা নয়; এর মাধ্যমে শিক্ষকতা পেশার প্রতিও সম্মান জানানো হয়।
কারণ, একটি সমাজের ভবিষ্যৎ তৈরির কাজটি অনেকাংশেই নির্ভর করে শিক্ষকদের ওপর। তাঁদের শ্রমের বড় অংশ নীরবে সম্পন্ন হয়। প্রতিদিন শ্রেণিকক্ষে দাঁড়িয়ে একই কথা বলা, দুর্বল শিক্ষার্থীকে সময় দেওয়া, ভুল শুধরে দেওয়া, পরীক্ষার খাতা দেখা, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা—এসব কাজের অধিকাংশের কোনো আলাদা দৃশ্যমান স্বীকৃতি থাকে না।
তাই একটি সম্মাননা একজন শিক্ষকের দীর্ঘ নীরব শ্রমকে দৃশ্যমান করে তোলে।
একটি প্রজন্মের শিক্ষক
শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এই অঞ্চলের শিক্ষা-ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শতবর্ষের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিয়েছে।
এই দীর্ঘ ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় মো. মনসুর ইকবালের শিক্ষকতা জীবনের প্রায় তিন দশক একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি নিজেও এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে শিক্ষক হয়ে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন। ফলে তাঁর জীবনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সম্পর্ক কেবল চাকরির নয়—এটি স্মৃতি, শিক্ষা ও উত্তরাধিকারের সম্পর্ক।
একজন শিক্ষার্থী থেকে শিক্ষক হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাঁকে ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবেও যুক্ত করেছে।
সময় বদলেছে, বদলায়নি শিক্ষকের দায়
বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। শিক্ষার্থীদের হাতে বইয়ের পাশাপাশি স্মার্টফোন, ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো নতুন প্রযুক্তি রয়েছে। তথ্য পাওয়া এখন সহজ; কিন্তু সঠিক তথ্য বাছাই করা, চিন্তা করা এবং সেই জ্ঞানকে জীবনে প্রয়োগ করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এই পরিবর্তনের সময়ে শিক্ষকের ভূমিকা তাই আরও বিস্তৃত হয়েছে।
শুধু পাঠ্যসূচি শেষ করাই যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীদের মানবিক, দায়িত্বশীল ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য।
মনসুর ইকবালের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের দর্শনের সঙ্গে এই মূল্যবোধের জায়গাটি গভীরভাবে সম্পর্কিত—শিক্ষা যেন শুধু পরীক্ষার ফলাফলে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মানুষের চরিত্র নির্মাণেও ভূমিকা রাখে।
শেষ প্রজন্মের জন্য রেখে যাওয়া আলো
একজন শিক্ষক অবসর নিলেও তাঁর শিক্ষা অবসর নেয় না। একজন শিক্ষকের বলা একটি বাক্য, দেওয়া একটি পরামর্শ কিংবা দেখানো একটি পথ অনেক বছর পরও একজন শিক্ষার্থীর জীবনে ফিরে আসতে পারে।
মো. মনসুর ইকবালের প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতা তাই কেবল একটি চাকরির সময়কাল নয়। এটি শ্রীমঙ্গলের বহু শিক্ষার্থীর বেড়ে ওঠার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘ স্মৃতির নাম।
শিক্ষকতা, শিক্ষক সংগঠন, সামাজিক উদ্যোগ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সাংবাদিকতা—বহুমাত্রিক এই পথচলায় তিনি নিজের জন্য যেমন একটি পরিচয় তৈরি করেছেন, তেমনি স্থানীয় সমাজেও রেখে চলেছেন তাঁর কাজের ছাপ।
শিক্ষার আলো কখনো এক জায়গায় থেমে থাকে না। একজন শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে যে আলো জ্বালান, সেই আলো ছড়িয়ে পড়ে পরিবারে, সমাজে, পরবর্তী প্রজন্মে।
মো. মনসুর ইকবালের দীর্ঘ পথচলাও যেন সেই আলোরই গল্প।
শিক্ষকের সার্থকতা শুধু তাঁর পড়ানো পাঠে নয়—তাঁর শিক্ষার্থীদের জীবন ও সমাজে রেখে যাওয়া ইতিবাচক প্রভাবেই। সেই অর্থে মো. মনসুর ইকবাল শ্রীমঙ্গলের শিক্ষা অঙ্গনের একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, সংগঠক ও মননশীল মানুষ—যাঁর পথচলায় শিক্ষা ও মানবিকতার আলো পাশাপাশি জ্বলছে।
ব্যক্তিত্ব এক নজরে
ব্যক্তিগত ও পেশাগত তথ্য
| বিবরণী | তথ্য |
| নাম | মো. মনসুর ইকবাল |
| পদবী | সিনিয়র শিক্ষক (ইংরেজি) |
| প্রতিষ্ঠান | ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শ্রীমঙ্গল |
| শিক্ষকতা পেশা শুরু | মার্চ ১৯৯৬ থেকে |
শিক্ষাজীবন
| শিক্ষাস্তর | প্রতিষ্ঠান |
| মাধ্যমিক | ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৭৮) |
| উচ্চ মাধ্যমিক | এমসি কলেজ (১৯৮০) |
| উচ্চশিক্ষা | চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় |
সাংগঠনিক ও সামাজিক সম্পৃক্ততা
| ক্ষেত্র | সংগঠনের নাম ও পদবী |
| শিক্ষক সংগঠন |
• বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বাশিস) — সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব
• শ্রীমঙ্গল উপজেলা সেকেন্ডারি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন — সাধারণ সম্পাদক |
| সামাজিক সম্পৃক্ততা | Srimangal Association of Voluntary Efforts — প্রেসিডেন্ট |
| সাংস্কৃতিক সংগঠন | ‘অনুশীলন চক্র, শ্রীমঙ্গল’ — প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক |
| সাংবাদিকতা | Daily Our Time — মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি |
| সম্মাননা | ‘লেবু স্যার একাডেমী, শ্রীমঙ্গল’ কর্তৃক সম্মাননা স্মারক |
শ্রীমঙ্গলের শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মনসুর ইকবাল—প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতায় যিনি গড়ে তুলেছেন অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ।