রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে স্বাস্থ্যসেবায় মানবিক সহায়তা
শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বস্তি দিতে নতুন সিলিং ফ্যান উপহার দিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সোশ্যাল এইড’। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যান স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে গরমের সময়ে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ কিছুটা স্বস্তিদায়ক করতে এগিয়ে এসেছে ‘সোশ্যাল এইড’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়,
প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েকটি সিলিং ফ্যান সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেওয়া হয়েছে। এসব ফ্যান রোগীদের অপেক্ষা ও চিকিৎসাসেবার সংশ্লিষ্ট স্থানে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ‘সোশ্যাল এইড’-এর মৌলভীবাজার জেলা সমন্বয়কারী এস এ হামিদ বলেন,
হাসপাতালে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রোগী সিট না পেয়ে বারান্দায় অবস্থান করেন। সেখানে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা না থাকায় গরমের মধ্যে তাদের কষ্ট করতে হয়। রোগীদের সেই দুর্ভোগ কিছুটা কমাতেই ফ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,
মানুষের প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই সামাজিক সংগঠনের অন্যতম দায়িত্ব। ছোট পরিসরের উদ্যোগ হলেও রোগী ও স্বজনদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারলে সেটিই এই কার্যক্রমের সার্থকতা।
বৃহস্পতিবার ফ্যানগুলো শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন ‘সোশ্যাল এইড’-এর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন,
সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি বেসরকারি ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে এলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।
তিনি আরও বলেন,
হাসপাতালকেন্দ্রিক এমন সহযোগিতামূলক উদ্যোগ রোগী ও স্বজনদের সেবার পরিবেশ উন্নত করার পাশাপাশি সমাজের অন্যদেরও মানবিক কাজে উৎসাহিত করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ রোগীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নাগরিকসেবার মানোন্নয়নে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
‘সোশ্যাল এইড’-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
ভবিষ্যতেও মানুষের প্রয়োজন ও স্থানীয় পর্যায়ের জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো চিহ্নিত করে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সংগঠনটির এমন উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।