হাইল হাওরের পাশে নতুন ডাম্পিং স্টেশন: বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমাধান, নাকি জলাভূমির জন্য নতুন ঝুঁকি?

 

বিশেষ ফিচার | আমার শ্রীমঙ্গল   শ্রীমঙ্গল শহরের দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকট যেন এবার নতুন একটি মোড়ে দাঁড়িয়েছে। শহরের কলেজ রোডের বর্তমান ডাম্পিং স্টেশন সরিয়ে শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের জেটি রোডসংলগ্ন ভাড়াউড়া এলাকায় নতুন ডাম্পিং স্টেশন ও স্যানিটারি ল্যান্ডফিল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পৌরসভা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ উদ্দেশ্যে ২০১৭ সালে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৪৩ একর জমি কেনা ও অধিগ্রহণ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

শহরের দীর্ঘদিনের ময়লা-আবর্জনার সমস্যা সমাধানে একটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে প্রয়োজন। কিন্তু যে এলাকায় নতুন স্থাপনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটি যদি হাইল হাওরের জলপ্রবাহ, কৃষিজমি, খাল-নালা ও জলজ জীববৈচিত্র্যের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সংযুক্ত হয়, তাহলে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হওয়া উচিত—

বর্জ্যের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে যেন হাওরের পরিবেশগত সংকট আরও গভীর না হয়।

 হাইল হাওর শুধু পানি নয়, একটি জীবন্ত প্রতিবেশ

হাইল হাওর শ্রীমঙ্গলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি। সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, বর্ষায় হাইল হাওরের জলরাশি প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে এবং শুষ্ক মৌসুমে তা প্রায় ৩ হাজার হেক্টরে নেমে আসে। হাওরটি প্রায় ১৩০টি বিল ও সরু জলধারার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং আশপাশের বহু গ্রামের মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

হাইল হাওরের অংশ বাইক্কা বিল মাছ ও পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। সরকারি তথ্যেও বাইক্কা বিলকে মাছ ও পাখির গুরুত্বপূর্ণ অভয়াশ্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, হাওরকে শুধু একটি নিচু জমি বা বর্ষায় পানি জমে থাকা এলাকা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি মাছের প্রজনন, জলজ উদ্ভিদ, পাখি, কৃষি, ভূগর্ভস্থ ও পৃষ্ঠজলের ভারসাম্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার সঙ্গে যুক্ত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেশব্যবস্থা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: শহরের ময়লা শেষ পর্যন্ত কোথায় যায়?

শ্রীমঙ্গল শহরের বিভিন্ন ড্রেন, নালা, ছড়া ও জলপ্রবাহ হাইল হাওর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ফলে শহরের অপরিশোধিত বর্জ্যপানি, পলিথিন, প্লাস্টিক, জৈব বর্জ্য কিংবা অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ জলপ্রবাহের মাধ্যমে হাওরে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়।

শুধু শ্রীমঙ্গল নয়—মৌলভীবাজার অঞ্চলের হাওরগুলোতে পৌর ও শিল্পবর্জ্য নিয়ে ইতোমধ্যে উদ্বেগের কথা প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন হাওরাঞ্চলে পৌর ও শিল্পবর্জ্য জীববৈচিত্র্যের ওপর চাপ তৈরি করছে; প্রতিবেদনে শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজার সদরকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

আর হাইল হাওরের সঙ্গে শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার সম্পর্ক নতুন কোনো বিষয় নয়। কোদালিছড়া খালসহ বিভিন্ন জলধারা শহরের পানি হাইল হাওরের দিকে বহন করে; বর্জ্যে খাল ভরাট হলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডাম্পিং স্টেশন হলে সবচেয়ে বড় পরিবেশগত ঝুঁকি কোথায়?

একটি  আধুনিক স্যানিটারি ল্যান্ডফিল আর খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার ভাগাড় এক জিনিস নয়। প্রকৌশলগতভাবে পরিকল্পিত ল্যান্ডফিলে বর্জ্য আলাদা করা, তলদেশে সুরক্ষা স্তর, লিচেট সংগ্রহ ও শোধন, বৃষ্টির পানি নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মিত পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ থাকা দরকার।

কিন্তু এসব ব্যবস্থা দুর্বল হলে হাওর-সংলগ্ন স্থানে ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যেতে পারে।

১. লিচেট—অদৃশ্য অথচ বড় বিপদ

পচা ময়লা, বৃষ্টির পানি ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের মিশ্রণে তৈরি দূষিত তরলকে বলা হয় লিচেট ।

এই তরল যদি সঠিকভাবে সংগ্রহ ও শোধন না করা হয়, তাহলে—

– মাটির গুণমান নষ্ট হতে পারে;
– ভূগর্ভস্থ পানি দূষিত হতে পারে;
– আশপাশের খাল ও জলাশয়ে দূষিত পানি যেতে পারে;
– পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে;
– জলজ প্রাণী ও মাছের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের অন্য একটি ল্যান্ডফিল-সংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত গবেষণাতেও ডাম্পিং জোনের আশপাশের পানি মানের ওপর প্রভাবের বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়েছে।

তাই প্রস্তাবিত স্থানে ল্যান্ডফিল হলে প্রথম প্রশ্ন হওয়া উচিত—লিচেট কোথায় যাবে এবং কীভাবে শোধন হবে?

২. মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকিতে পড়তে পারে

হাইল হাওর বহু প্রজাতির মাছের আবাস ও প্রজননক্ষেত্র। গবেষণায় হাইল হাওরকে বিস্তৃত জলাভূমি ব্যবস্থা হিসেবে দেখানো হয়েছে, যেখানে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্য বিভিন্ন আবাসস্থল রয়েছে।

বর্জ্য থেকে দূষিত পানি জলাশয়ে পৌঁছালে সবচেয়ে আগে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পানির গুণমান। এরপর প্রভাব পড়তে পারে—

প্ল্যাঙ্কটন → জলজ উদ্ভিদ → ছোট মাছ → বড় মাছ → পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর খাদ্যশৃঙ্খলে।

অর্থাৎ একটি জায়গায় বর্জ্য জমা হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব শুধু সেই জমির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার নিশ্চয়তা নেই।

৩. জলজ উদ্ভিদের ওপরও পড়তে পারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

হাওরের শাপলা, পদ্ম, হিজল-করচসহ বিভিন্ন জলজ ও জলাভূমিনির্ভর উদ্ভিদ এই প্রতিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী হাইল হাওর বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ, পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।

বর্জ্যের সঙ্গে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান, প্লাস্টিক ও অন্যান্য দূষণকারী পদার্থ পানিতে গেলে পানির স্বাভাবিক রাসায়নিক ভারসাম্য পরিবর্তিত হতে পারে। ফলে কোনো কোনো স্থানে আগাছা বাড়তে পারে, আবার সংবেদনশীল জলজ উদ্ভিদের আবাস নষ্ট হতে পারে।

প্লাস্টিক ও পলিথিন: হাওরের জন্য দীর্ঘস্থায়ী বোঝা

শহরের বর্জ্যের একটি বড় অংশ প্লাস্টিক, পলিথিন, প্যাকেট, বোতল ও একবার ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী।

এসব পদার্থ সহজে পচে না। বৃষ্টির পানি ও বন্যার প্রবাহে এগুলো ড্রেন, খাল ও হাওরে পৌঁছাতে পারে।

এর ফলে—

– খাল ও নালার পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হতে পারে;
– জলাবদ্ধতা বাড়তে পারে;
– মাছ ও জলজ প্রাণী প্লাস্টিকের সংস্পর্শে আসতে পারে;
– দীর্ঘমেয়াদে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে;
– হাওরের নান্দনিক সৌন্দর্য ও পর্যটন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হতে পারে ড্রেনেজ ব্যবস্থা

শুধু নতুন ডাম্পিং স্টেশন বানালেই সমস্যার সমাধান হবে না।

কারণ শহরের প্রতিটি ড্রেন, নালা, ছড়া ও খাল যদি অপরিকল্পিতভাবে হাওরের দিকে দূষিত পানি বহন করে, তাহলে শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি বড় অংশ শেষ পর্যন্ত হাওরের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে শ্রীমঙ্গল এলাকার ৩০টির বেশি পাহাড়ি ছড়া হাইল হাওরের দিকে প্রবাহিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ শ্রীমঙ্গলের পরিবেশ রক্ষা করতে হলে শুধু ভাগাড় নয়—পুরো ওয়াটারশেড বা জলপ্রবাহ ব্যবস্থাকে একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

হাওরের জমিতে ল্যান্ডফিল হলে আরেকটি প্রশ্ন—বর্ষার পানি কোথায় যাবে?

হাওরের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হলো মৌসুমি পানি ধারণ করা। বাংলাদেশের পরিবেশ অধিদপ্তরের হাওরবিষয়ক নথিতেও জলাভূমির স্বাভাবিক জলপ্রবাহ, আবাসস্থল ও জলধারণ ক্ষমতা নষ্ট হওয়ার সঙ্গে ভূমি পরিবর্তন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত চাপের সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।

তাই প্রস্তাবিত জায়গাটি যদি বর্ষায় প্রাকৃতিকভাবে পানি ধারণ করে, তাহলে প্রকল্পের আগে অবশ্যই জানতে হবে—

বর্ষাকালে সর্বোচ্চ পানির স্তর কত?

জলপ্রবাহ কোন দিকে যায়?

প্রস্তাবিত জমি কি সরাসরি হাওরের জলাভূমির অংশ?

জমির ভরাট বা উঁচুকরণ করলে আশপাশের পানি কোথায় সরে যাবে?

বন্যার সময় ল্যান্ডফিল প্লাবিত হলে কী হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া কেবল জমির মালিকানা বা আয়তন দিয়ে একটি ল্যান্ডফিলের পরিবেশগত উপযোগিতা নির্ধারণ করা যায় না।

 বর্জ্য রিসাইক্লিং কি নিজেই ক্ষতিকর?

না। বরং সঠিকভাবে পরিচালিত রিসাইক্লিং বর্জ্য কমানোর অন্যতম উপায়।

সমস্যা তৈরি হয় যখন রিসাইক্লিংয়ের নামে বর্জ্য বাছাই, ভাঙা, পোড়ানো বা প্রক্রিয়াজাতকরণ এমন জায়গায় করা হয় যেখানে—

– বর্জ্যপানি শোধনের ব্যবস্থা নেই;
– প্লাস্টিক পোড়ানো হয়;
– ই-বর্জ্য আলাদা ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভাঙা হয়;
– ব্যাটারি বা রাসায়নিক বর্জ্য সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে মেশানো হয়;
– ধুলো ও দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণ নেই;
– শ্রমিকদের নিরাপত্তা নেই;
– কোনো লিচেট সংগ্রহ ব্যবস্থা নেই।

তখন রিসাইক্লিং কেন্দ্রও স্থানীয় পানি, মাটি ও বায়ুর ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশে বর্তমানে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১ (সংশোধিত) সহ বর্জ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন বিধিমালা রয়েছে।

আইনও বলছে জলাধার রক্ষার কথা

পরিবেশ অধিদপ্তরের FAQ-তে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ধারা ৬(ঙ)-এর বিষয়ে বলা হয়েছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া জলাধার ভরাট করা যাবে না এবং জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তনের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

তাই নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রস্তাবিত ২ দশমিক ৪৩ একর জমির প্রকৃত ভূমি শ্রেণি ও জলাভূমির সঙ্গে এর জলবৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নির্ধারণ করা।

এটি কেবল পৌরসভা বা স্থানীয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; প্রয়োজন হলে পরিবেশগত ও জলবিজ্ঞানভিত্তিক স্বাধীন মূল্যায়নও জরুরি।

তাহলে সমাধান কী?

শ্রীমঙ্গলের মানুষকে একদিকে পরিচ্ছন্ন শহর দিতে হবে, অন্যদিকে হাইল হাওরকেও রক্ষা করতে হবে। এই দুই লক্ষ্যকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর প্রয়োজন নেই।

একটি পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় থাকতে পারে—

১. উৎসেই বর্জ্য আলাদা করা

জৈব, প্লাস্টিক, কাগজ, কাচ, ধাতু ও ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য আলাদা সংগ্রহ।

২. জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট

শহরের বাজার ও বাসাবাড়ির জৈব বর্জ্য থেকে কম্পোস্ট তৈরি করা যেতে পারে।

৩. প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার

প্লাস্টিক বাছাই করে অনুমোদিত রিসাইক্লিং ব্যবস্থায় পাঠানো।

৪. ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য আলাদা ব্যবস্থা

হাসপাতাল, ব্যাটারি, ই-বর্জ্য ও রাসায়নিক বর্জ্য সাধারণ পৌর বর্জ্যের সঙ্গে না মেশানো।

৫. প্রকৃত স্যানিটারি ল্যান্ডফিল

যে অংশ পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়, শুধু সেই অবশিষ্ট বর্জ্যের জন্য প্রকৌশলগতভাবে নিরাপদ ল্যান্ডফিল।

৬. লিচেট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট

ল্যান্ডফিল থেকে বের হওয়া দূষিত তরল সংগ্রহ ও শোধনের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা।

৭. বৃষ্টির পানি ও বর্জ্যপানি আলাদা রাখা

বর্ষার পানি যেন বর্জ্যের সঙ্গে মিশে সরাসরি হাওরে না যায়।

৮. নিয়মিত পানি পরীক্ষা

হাওর, খাল, ভূগর্ভস্থ পানি ও আশপাশের জলাশয়ের পানি প্রকল্পের আগে এবং পরে নিয়মিত পরীক্ষা।

আগে পরিবেশগত সমীক্ষা, পরে নির্মাণ

প্রস্তাবিত স্থানে প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে অন্তত কয়েকটি তথ্য প্রকাশ্যে আনা দরকার—

 জনগণের সামনে থাকা উচিত:

– জমির সঠিক দাগ ও ভূমি শ্রেণি;
– বর্ষাকালে জমির পানির উচ্চতা;
– হাইল হাওরের সঙ্গে জলপ্রবাহের সম্পর্ক;
– ভূগর্ভস্থ পানির স্তর;
– আশপাশের খাল ও ছড়ার মানচিত্র;
– মাছের প্রজনন ও চলাচলের পথ;
– প্রস্তাবিত ল্যান্ডফিলের নকশা;
– লিচেট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা;
– বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের পদ্ধতি;
– দুর্গন্ধ ও মিথেন গ্যাস ব্যবস্থাপনা;
– বন্যার সময় জরুরি ব্যবস্থাপনা;
– পরিবেশগত ছাড়পত্র ও সংশ্লিষ্ট অনুমোদন।

কারণ “স্যানিটারি ল্যান্ডফিল” নাম দিলেই কোনো স্থাপনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবেশবান্ধব হয়ে যায় না।

 শ্রীমঙ্গলের জন্য এটি শুধু একটি ভাগাড়ের প্রশ্ন নয়

শ্রীমঙ্গল পরিচিত চা-বাগান, বন, পাহাড়, ছড়া ও হাওরের সমন্বিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। হাইল হাওর ও বাইক্কা বিল সেই প্রাকৃতিক ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

হাইল হাওরকে ঘিরে মাছ, কৃষি, পাখি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সম্পর্ক বহুদিনের। বন ও পরিবেশবিষয়ক সরকারি নথিতেও হাইল হাওরকে গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি এবং পাখি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

সুতরাং শহরের ময়লা সমস্যার সমাধান অবশ্যই দরকার। কিন্তু সমাধানের জায়গাটি এমন হতে হবে, যাতে আজকের শহরের আবর্জনা সামলাতে গিয়ে আগামী দিনের হাওরকে আবর্জনার ঝুঁকিতে না ফেলা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *