শ্রীমঙ্গলে বসতঘরে ১৬ ফুটের বিশালাকার অজগর উদ্ধার, এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক

খাটের নিচে গুমরে উঠছিল শব্দ, আলো ফেলতেই বেরিয়ে এলো ২৬ কেজির ‘দানব’!

 নিজস্ব প্রতিবেদক: রাতের নিস্তব্ধতা চিরে খাটের নিচ থেকে ভেসে আসছিল এক অদ্ভুত শব্দ। সন্দেহ থেকে টর্চের আলো ফেলতেই চোখ ছানাবড়া ঘরের লোকজনের—খাটের নিচে কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে আছে এক বিশালাকার দানবীয় অজগর! এমন ঘটনাতেই তীব্র শোরগোল আর আতঙ্কের সৃষ্টি হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ইছবপুর গ্রামে।

শনিবার গভীর রাতে ওই গ্রামের ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী মরহুম হারুন মিয়ার বসতঘরে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। পরে সেখান থেকে প্রায় ২৬ কেজি ওজনের ও ১৬ ফুট দীর্ঘ একটি বিশাল অজগর সাপ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ১২টার দিকে ঘুমাতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পরিবারের এক সদস্য খাটের নিচ থেকে খসখস শব্দ শুনতে পান। উৎস খুঁজতে গিয়েই তিনি খাটের নিচে দৈত্যাকার সাপটিকে দেখতে পান। মুহূর্তে বাড়ির লোকজনের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি প্রতিবেশীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সাপটি এক নজর দেখতে উৎসুক জনতার ঢল নামে।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রলাদ বাবু নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা দ্রুত শ্রীমঙ্গলস্থ ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’-এ খবর দেন। সংবাদ পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দক্ষতার সাথে সাপটিকে কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

উদ্ধার অভিযান শেষে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, “অজগরটি বেশ সুঠাম ও বিশাল। দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ২৬ কেজি। রাতেই উদ্ধার করা সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।”

সাম্প্রতিক সময়ে লোকালয়ে বন্যপ্রাণী ও সাপের আনাগোনা বৃদ্ধির বিষয়ে পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ বলেন, “আবাসস্থল সংকট ও খাদ্যের সন্ধানে সাপ মাঝেমধ্যেই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সাপ দেখলে তা পিটিয়ে না মেরে বা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ দূরত্বে থাকুন এবং দ্রুত বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনে যোগাযোগ করুন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *