
‘সাদা খরিস’ ভেবে শ্রমিকদের শোরগোল, অক্ষত অবস্থায় সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগে হস্তান্তর
নিজস্ব প্রতিবেদক: চা বাগানের সবুজ পাতায় ঘেরা সারিবদ্ধ গাছে তখন পুরোদমে চলছিল পাতা চয়নের কাজ। হঠাৎ এক চা শ্রমিকের চোখে পড়ে একটি বিশালাকার সাপ। মুহূর্তেই বিষধর ‘সাদা খরিস‘ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কে চা পাতা তোলা বন্ধ করে কাজ ফেলে দৌড়ে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান শ্রমিকরা। চা বাগান জুড়ে তৈরি হয় চরম আতঙ্ক আর শোরগোল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানে এই রোমাঞ্চকর ঘটনাটি ঘটে। তবে আতঙ্ক ছড়ালেও পরবর্তীতে জানা যায় সাপটি কোনো বিষধর সাপ নয়, বরং এটি পরিবেশবান্ধব একটি ‘ইন্ডিয়ান র্যাট স্নেক’ বা দাঁড়াশ সাপ।
স্থানীয় ও বাগান সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে শ্রমিকরা যখন ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের নির্দিষ্ট সেকশনে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ সাপটি দেখতে পেয়ে শ্রমিকরা ‘সাদা খরিস’ বলে চিৎকার দিতে থাকেন। পরে আতঙ্কের বিষয়টি বাগানের ম্যানেজার সাদেকুর রহমানকে অবহিত করা হলে তিনি কালবিলম্ব না করে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় নিয়োজিত শ্রীমঙ্গলস্থ ‘বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন’-কে খবর দেন।
সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ দ্রুত ভুড়ভুড়িয়া চা বাগানের ওই সেকশনে পৌঁছান। তারা সাপটিকে ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে শ্রমিকদের নিশ্চিত করেন যে এটি কোনো বিষধর সাপ নয়, এটি সম্পূর্ণ নির্বিষ একটি দাঁড়াশ সাপ। পরবর্তীতে উদ্ধারকারীরা দক্ষতার সাথে সাড়ে ৬ ফুট দৈর্ঘ্যের দাঁড়াশ সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।
উদ্ধার অভিযান শেষে বিকেলে সাপটিকে নিরাপদে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, “চা বাগানে শ্রমিকরা প্রায়ই অজ্ঞতাবশত বা ভয়ের কারণে নির্বিষ সাপকেও বিষধর ভেবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বা মেরে ফেলার চেষ্টা করেন। তবে ভুড়ভুড়িয়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ সাপটিকে না মেরে সঠিক সময়ে আমাদের খবর দেওয়ায় একটি দরকারী বন্যপ্রাণী নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”
পরিবেশকর্মীরা জানান, দাঁড়াশ সাপ ক্ষেতের ক্ষতিকর ইঁদুর খেয়ে কৃষকের ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। লোকালয় বা চা বাগানে যেকোনো সাপ দেখলে না মেরে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ বা বন্যপ্রাণী সেবা সংস্থাকে খবর দেওয়ার পরামর্শ দেন তারা।