সবুজের কোল ঘেঁষে: বিশ্ব পর্যটন দিবসে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের উপাখ্যান

প্রতিবেদন আমার শ্রীমঙ্গল

প্রতিবছর ২৭ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব পর্যটন দিবস’। প্রকৃতির রূপ, বৈচিত্র্য এবং সংস্কৃতিকে উদযাপন করার এই বিশেষ দিনে বাংলাদেশের যে প্রান্তটির কথা সবচেয়ে আগে হৃদয়ে ভেসে ওঠে, তা হলো দুটি পাতাকুঁড়ির দেশ মৌলভীবাজার এবং তার রত্ন শ্রীমঙ্গল। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত চা বাগান, ঘন রেইনফরেস্ট, জলপ্রপাত আর হাওরের নীল জলরাশি নিয়ে এই অঞ্চলটি যেন রূপসী বাংলার এক অনন্য স্বর্গরাজ্য।

সবুজ গালিচায় ঘেরা এক জনপদ

শ্রীমঙ্গলকে বলা হয় বাংলাদেশের ‘চা রাজধানী’। উঁচু-নিচু টিলার ওপর সারিবদ্ধ চায়ের গাছগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজ হাতে এক নিপুণ সবুজ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে। সকালে যখন কুয়াশার চাদর সরিয়ে রোদ পড়ে চা পাতায়, তখন তৈরি হয় এক অলৌকিক দৃশ্য। চা বাগানের পাশাপাশি রাবার বাগান, আনারস ও লেবুর বাগান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন মাত্রা।

জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতির মেলবন্ধন

মৌলভীবাজারের পর্যটন কেবল চা বাগানেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এই অঞ্চলে রয়েছে বৈচিত্র্যময় সব আকর্ষণ:

  • লাওয়াছড়া জাতীয় উদ্যান: শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত এই চিরহরিৎ রেইনফরেস্ট বিরল প্রজাতির উল্লুক, নানাবিধ পাখি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। বনের বুক চিরে চলে যাওয়া ঐতিহাসিক রেললাইনটি পর্যটকদের কাছে এক অপার বিস্ময়।
  • বাইক্কা বিল: হাইল হাওরের অংশ এই অভয়াশ্রমটি শীতকালে হাজার হাজার অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
  • হামহাম জলপ্রপাত ও মাধবকুণ্ড: গহিন অরণ্যের রোমাঞ্চ পেরিয়ে দেখা মেলে দুর্গম হামহাম জলপ্রপাতের। অন্যদিকে বড়লেখার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত যুগ যুগ ধরে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে।
  • সাতরঙা চা: শ্রীমঙ্গলে ভ্রমণের পূর্ণতা মেলে বিখ্যাত নীলাচল বা নীলকণ্ঠ টি কেবিনের “সাতরঙা চা”য়ের এক চুমুকে।

পরিবেশবান্ধব পর্যটন (Eco-Tourism) ও টেকসই ভবিষ্যৎ

বিশ্ব পর্যটন দিবসের মূল ভাবনার অন্যতম দিক হলো ‘টেকসই পর্যটন’ (Sustainable Tourism)। মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলের পর্যটন শিল্প স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী (যেমন: খাসিয়া, মনিপুরী, ত্রিপুরা) ও চা শ্রমিকদের জীবনের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইকো-রিসোর্ট ব্যবস্থা এবং স্থানীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন পরিবেশ রক্ষা করে পর্যটনকে এগিয়ে নেয়ার একটি চমৎকার উদাহরণ তৈরি করেছে।

উপসংহার

নগরজীবনের যান্ত্রিকতা আর ব্যস্ততা থেকে মুক্তি পেতে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল যেন এক প্রশান্তির ঠিকানা। বিশ্ব পর্যটন দিবসে প্রকৃতির এই অনন্য উপহারকে ভালোবেসে রক্ষা করা এবং এর পরিবেশগত ভারসাম্য ব নাজায় রেখে ভ্রমণ করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *