শ্রীমঙ্গলে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি শুরু

তিন মাস চলবে প্রজননস্থল ধ্বংস ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম

শ্রীমঙ্গলে,মৌলভীবাজার

মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি’ শুরু হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারের  জনসচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।

১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা কার্যালয় থেকে অনলাইনে যুক্ত হন উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভার কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজন। অনুষ্ঠান শেষে পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়।

শ্রীমঙ্গলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিনহাজুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাকিব, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অংশ নেন।

কর্মসূচির বিষয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, আগামী তিন মাস জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান,

এডিস মশা সাধারণত জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

        প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,

শুধু সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণ করতে হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক উদ্যোগের সঙ্গে নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *